প্রকাশিত: ০৫/০৭/২০১৭ ২:৪৯ পিএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ৫:১৬ পিএম

রাজশাহী ব্যুরো::
ছোটখাটো একটি চাকরি করেন মাজদার। সারাদিন কাজ শেষে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরেন। খাওয়া-দাওয়া শেষে স্ত্রী ঘুমিয়ে পড়লেও আরেক ঘরে বসে টিভি দেখছিলেন মাজদার ও তার সাত বছর বয়সী ছেলে সিয়াম। কিন্তু হঠাৎই মেঝেতে চোখ আঁটকে যায় তার।

দেখেন, সাপ! ভয় পেয়েছিলেন। বুদ্ধি হারানোর মতো অবস্থা মাজদারের। তবে ভাগ্যিস ঘরের কোণে রাখা ছিল একটি লাঠি। লাঠি ও টর্চলাইট হাতে নিয়ে মারতে গেলে সাপটি লুকিয়ে যায় ঘরের আলমারির পেছনে। অনেক কষ্টে সেটিকে মারলেন। কিছুক্ষণ পর দেখা গেল আরো তিনটি সাপ। তাদেরকেও মারলেন।

কিন্তু একি! একে একে বেরিয়ে আসতে থাকলো আরো সাপ! ঘরের মাটি ও দেয়াল খুড়ে শুরু হলো সাপ নিধনের দুঃসাহসিক অভিযান। এতে যোগ দিলেন গ্রামবাসীও। তাদের হাতে একে একে মারা পড়লো ২৭টি বিষাক্ত গোখরা।

মঙ্গলবার রাতে রাজশাহীর মহানগরীর বুধপাড়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনা জানাজানি হলে সকাল থেকে আশেপাশের লোকজন ভিড় জমান সাপগুলো দেখতে।

বাড়ির মালিক মাজদার আলী জানান, রাত ১১টার দিকে তিনি ঘরে বসে টিভি দেখছিলেন। এসময় ঘরের মধ্যেই একটি সাপ দেখতে পান তিনি। কিন্তু মারতে গেলে সেটি আলমারির আড়ালে লুকিয়ে যায়। পরে আলমারি সরিয়ে আরো তিনটি সাপ দেখতে পান। মাজদার তার ভাইদের ডাকেন। পরে ওই ঘরের গর্ত খুঁড়ে মোট ২৭টি সাপ মারেন।

তিনি জানান, বাড়িটি মাটির তৈরি এবং অনেক পুরনো। তাই হয়তো সাপ বাসা বেঁধেছে। গরমের কারণে সাপগুলো বেরিয়ে আসতে পারে। বাড়িতে আরো সাপ আছে বলে তার ধারণা। এখন আতঙ্কে রয়েছে তার পরিবার।

মাজদার আলী জানান, সাপের দখলে চলে গেছে পৈত্রিক বাড়িটি। বাড়ির সবাই আতঙ্কিত। তার বউ ও বাচ্চা এখন আর বাড়িতে থাকতে চাইছে না। ভয়ে ওই ঘরেও আর কেউ ঢুকছেন না। কারণ, যে সাপগুলো মারা পড়েছে, সবই বাচ্চা। দৈর্ঘ্য আড়াই ফুট। মাজদারের ধারণা, বাড়িতে এখনো আরো সাপ আছে। বিশেষ করে সাপের বাচ্চাগুলোর বাবা-মা তো রয়েছেই। তাই অভিজ্ঞ সাপুড়িয়ার খোঁজ করছেন তিনি।

গ্রামের সাইদুর রহমান নামে এক ব্যক্তি জানান, মাজদারের ওই ঘরে অসংখ্য ইঁদুরের গর্ত রয়েছে। আর সেই গর্তগুলোতে বাসা বেঁধেছিল সাপ। রাত ১১টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত শাবল দিয়ে ঘরের মধ্যে বিভিন্ন গর্ত খুঁড়ে সাপগুলো মারা হয়েছে। পরে গর্তের ভেতর পানি ঢেলে দেয়া হয়। এতে আরো সাপ থাকলে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা আছে।

পাঠকের মতামত

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যৌথ অভিযান: সন্ত্রাসী জিয়াউর রহমানসহ আটক ১৭

টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ আশপাশের বিভিন্ন ব্লকে সমন্বিত এক বিশাল যৌথ অভিযান ...

টেকনাফে জনতার বিক্ষোভের মুখে গণশুনানি পন্ড; কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতা অবরুদ্ধ!

“ইউনিয়ন বিভক্তি হলে আমরণ অনশন করবো” “বর্গকিলোমিটারের অজুহাতে ইউনিয়ন বিভক্তি চাই না” “ইউনিয়ন বিভক্তি হলে ...

কক্সবাজারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জীবন দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা গাইডলাইন অনুমোদন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জীবন দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা (এলএসবিই) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গাইডলাইন উপস্থাপন ও অনুমোদনবিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত ...

ইয়াবা কারবার, অপহরণ ও আধিপত্য বিস্তারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আতঙ্কে উখিয়া-টেকনাফ

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সংঘবদ্ধ অপরাধ, সশস্ত্র তৎপরতা ও অপহরণ বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের ...
Single Page Footer